মে ১৫, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের নতুন ভবন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকায়ন এবং দুটি আন্তঃনগর ট্রেন (পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের) যাত্রাবিরতির দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি না মানলে ফুলবাড়ীতে অর্ধদিবস রেলপথ অবরোধসহ স্টেশন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, ফুলবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। যাত্রীসেবার মানও অত্যন্ত নিম্নমানের।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, ফুলবাড়ী ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব মানিক মন্ডল, ফুলবাড়ী সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণ সংহতি আন্দোলন ফুলবাড়ী শাখার সদস্য সচিব আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, এনসিপির দিনাজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ফুলবাড়ী শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম, মোতালেব হোসেন মহররমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের বর্তমান ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও স্টেশন আধুনিকায়নের পাশাপাশি পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানান তারা।বক্তারা আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃনগর ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ১৭ মে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশসহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামী দিনে ফুলবাড়ীর জনগণ অর্ধদিবস রেলপথ অবরোধসহ ফুলবাড়ী রেলস্টেশন ঘেরাও করবে।স্থানীয়রা বলেন, ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া পাথর খনিসহ একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্টাফরা এই স্টেশন ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও পার্বতীপুর এবং নবাবগঞ্জের কিছু অংশের মানুষ এই স্টেশন দিয়েই ট্রেনে চলাচল করে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
আসন স্বল্পতার কারণে এই স্টেশনে যাত্রাবিরতি ট্রেনগুলো রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে না। একইসাথে স্টেশনটি ব্রিটিশ আমলের হলেও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ, আধুনিক ভবন, প্ল্যাটফর্মের শেড না থাকায় বর্ষাকালে যাত্রীদের বৃষ্টির পানিতে ভিজে নানা ভোগান্তিতে ট্রেনে উঠতে হয়।ফুলবাড়ী স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী স্টেশন দিয়ে আপ-এ ১১টি এবং ডাউনে ১১টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন যাতায়াত করে। এর মধ্যে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি নেই এই স্টেশনে। এসব ট্রেনগুলো থেকে এই স্টেশনে প্রতিমাসে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়। যা এক বছরে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন