রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আজকের বাজারে সোনার দাম যেনে নিন?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ১০:০৪ এএম

আজকের বাজারে সোনার দাম যেনে নিন?

ছবি - সংগৃহীত

স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরল ক্রেতাদের জন্য। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দামে সাম্প্রতিক বড় দরপতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় দরপতনের ঘটনা ঘটিয়ে এবার ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে একবারে ৮ হাজার ৩৮৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামে একদিনে এত বড় হ্রাস দেখা যায়নি।

যদিও দাম কমার পরও ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম এখনো দুই লক্ষ টাকার ওপরেই থাকছে। বাজুসের এই সিদ্ধান্ত বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় এবং নতুন এই নির্ধারিত দাম বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর থেকেই সারাদেশে কার্যকর হয়েছে। আজ শুক্রবার, ২৪ অক্টোবরও একই দামে সোনা কেনাবেচা হচ্ছে। এই আকস্মিক মূল্যহ্রাস একদিকে যেমন ক্রেতাদের মধ্যে সোনা কেনার আগ্রহ বাড়াতে পারে, তেমনি যারা সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

বাজুস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সোনার দামের এই বড় ধরনের সমন্বয়ের পেছনে প্রধান কারণ হলো স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড বা খাঁটি সোনা) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া। তেজাবি সোনা হলো সেই খাঁটি সোনা, যা থেকে বিভিন্ন মানের ও ক্যারেটের গহনা তৈরি করা হয়। যখন আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে এই তেজাবি সোনার দাম কমে, তখন জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে খুচরা পর্যায়ে সোনার দাম সমন্বয় করে থাকে।

এবারের বিশাল দরপতন সেই সমন্বয়েরই অংশ। এর আগে বেশ কয়েক দফায় দাম বেড়ে ২২ ক্যারেট সোনার ভরি প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। সেই তুলনায় এবারের হ্রাস ক্রেতাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় খবর।বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, আজ শুক্রবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকায়। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০১ টাকা, যা দুই লাখ টাকার মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে এসেছে।

১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির সোনার ক্ষেত্রেও দাম কমানো হয়েছে; প্রতি ভরি সনাতন পদ্ধতির সোনা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকায়। বাজুসের এই ঘোষিত দাম সারা দেশের সকল জুয়েলারি দোকানে শুক্রবার থেকে কার্যকর রয়েছে।তবে ক্রেতাদের জন্য একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত এই দামই সোনার গহনা কেনার চূড়ান্ত মূল্য নয়। বাজুসের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাদের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রদান করতে হবে।

এর পাশাপাশি যোগ হবে বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বা গহনা তৈরির খরচ। অবশ্য এই মজুরি নির্দিষ্ট নয়; গহনার ডিজাইন, এর সূক্ষ্ম কারুকাজ, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং মানের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির হার ৬ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশিও হতে পারে। ফলে একজন ক্রেতা যখন শোরুম থেকে গহনা কেনেন, তখন তাকে সোনার মূল দামের সাথে ভ্যাট এবং নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি যোগ করেই চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়। তাই গহনা কেনার আগে মজুরির বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

শুধু সোনা নয়, বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব পড়েছে রুপার দামেও। জুয়েলার্স সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭৩৫ টাকা কমে এখন হয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ টাকা। এর আগে এই মানের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছিল ৬ হাজার ২০৫ টাকায়। অন্যান্য মানের রুপার দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে। সোনার বাজারে এই আকস্মিক বড় দরপতন ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমকে সামনে রেখে, তারা এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেন। অন্যদিকে, যারা উচ্চমূল্যে সোনা কিনে রেখেছিলেন, তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা সাধারণত স্থিতিশীল থাকে বলেই মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আগামী দিনে সোনার দাম কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।