বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

অক্টোবরের ২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৬:৫১ পিএম

অক্টোবরের ২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

ছবি - সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরিয়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২২ দিনেই দেশে ১৯২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ৪৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবরের প্রথম ২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে, চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেশি এসেছে। দেশের চলমান ডলার সংকটের মধ্যে এই প্রবৃদ্ধি সামষ্টিক অর্থনীতি পরিচালনায় কিছুটা হলেও স্বস্তি যোগাচ্ছে।

প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ইতিবাচক ধারার পেছনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, অবৈধ হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ভালো ফল দিয়েছে। একইসাথে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে প্রণোদনা বাড়ানো এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহজ করার ফলেও এই সফলতা আসছে।

প্রবাসীরা এখন বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।এদিকে, শুধু অক্টোবর মাসেই নয়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে ধারাবাহিক ভালো প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের পহেলা জুলাই থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৯৫০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

সে হিসাবে, অর্থবছরের প্রথম প্রায় চার মাসের ব্যবধানেই প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, হুন্ডির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলে এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলে এই ধারা আগামী দিনগুলোতেও বজায় থাকবে।