বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

হাদির রক্তের শপথ: ‘আমরা প্রত্যেকে এখন হাদি’

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১২:৩০ এএম

হাদির রক্তের শপথ: ‘আমরা প্রত্যেকে এখন হাদি’

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু আপসহীন থাকা জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘আমরা প্রত্যেকে এখন হাদি’ প্রত্যয়ে রাজপথে নেমে আসেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রাত ১০টার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে ছোট-বড় অসংখ্য বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’আমরা সবাই হাদি হবো।

 গুলির মুখে কথা ক’বো’—এমন সব তেজোদীপ্ত স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো নীলক্ষেত ও শাহবাগ এলাকা। প্রতিটি হলের মিছিল এসে জড়ো হয় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা হাদির আত্মত্যাগকে জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। রিয়াদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন:ওসমান হাদিদের হত্যা করে নিঃশেষ করা যায় না। শহীদ ওসমান হাদি যে দাবানল দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা আগ্নেয়গিরি হয়ে ফিরে আসবে। আজ থেকে আমরা প্রত্যেকেই একেকজন ওসমান হাদি।শিক্ষার্থীরা সেখানে সম্মিলিতভাবে শপথ নেন যে, হাদির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, এই দেশকে দিল্লি বা পিন্ডির নির্দেশে নয়, ঢাকার জনগণের ইচ্ছায় চলতে হবে। হাবিবুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা যতদিন বেঁচে থাকব, আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই সংগ্রাম চলবে। ভারতের আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদকে আমরা কখনোই আর অগ্রসর হতে দেব না।”সমাবেশে শিক্ষার্থীরা যারা হাদি হত্যার পরও ‘সুশীলতার’ দোহাই দিয়ে খুনি বা আধিপত্যবাদী শক্তির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, রাজপথের প্রতিরোধের মাধ্যমেই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

রাত ১২টার পরেও ঢাবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মোড়ে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট জটলা ও প্রতিবাদী স্লোগান শোনা যাচ্ছিল। হাদির মরদেহ দেশে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।