মার্চ ৩, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তার মৃত্যুর খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করার পর থেকেই একদল নেটিজেন তার জীবিত থাকার দাবি জানিয়ে কিছু ছবি প্রচার করেন।
তবে নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খামেনি সাহারা মরুভূমিতে অবস্থান করছেন বলে যে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূলত এটি ২০১৪ সালের একটি পুরোনো ছবি যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।
কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা ভিডিও ফুটেজ এখন পর্যন্ত তার জীবিত থাকার স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে পারেনি।চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। চীন মনে করে, জ্বালানি নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই নিরাপত্তা রক্ষায় বেইজিং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য যে, চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা এবং দেশটির বেশির ভাগ জ্বালানি পণ্য এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।গত শনিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। চীনের পক্ষ থেকে এই নৌপথ খোলা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে কারণ এটি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা ইতিমধ্যে এই পথে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। খামেনির মৃত্যু পরবর্তী ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং এই আঞ্চলিক অস্থিরতা এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন