এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এবার অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে অনুপ্রবেশ বিতর্ক। বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসা শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। এই ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরকে তীব্রভাবে আক্রমণ করছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে কৈফিয়ত দাবি করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে বিশেষ হেলিকপ্টারে ভারতে পাড়ি জমান শেখ হাসিনা। সেই থেকে গত প্রায় ২০ মাস ধরে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। এই বিষয়টিই এখন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের মাঠে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
শনিবার বীরভূমের এক বিশাল নির্বাচনী প্রচার সভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেন যে, শেখ হাসিনা কি ভারতে শরণার্থী হিসেবে আছেন নাকি অনুপ্রবেশকারী, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি সরকার একদিকে অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলকে দোষারোপ করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ ২০ মাস ধরে দিল্লিতে বসিয়ে রেখেছে। সবথেকে বড় বাংলাদেশিকে মোদি সরকার আশ্রয় দিয়ে রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনার বর্তমান ‘স্ট্যাটাস’ বা আইনি অবস্থান কী, তা দেশের মানুষকে জানানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।তবে তৃণমূলের এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বরং পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বর্ধমানের কালনায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকেই অনুপ্রবেশকারীদের প্রধান মদতদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। মোদি তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করে দেন যে, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের ব্যাগ গোছানোর সময় এসেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং যারা তাদের ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে আশ্রয় দিয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহও একই সুরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত নিরলস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে অনুপ্রবেশ ইস্যু ছাড়াও ভোটার তালিকা সংশোধন, দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং উন্নয়ন নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ দলগুলোর মধ্যে কথার লড়াই তুঙ্গে। ভারতের এই রাজ্যে আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ ততটাই তীব্র হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কোন ইস্যুটি ভোটারদের মনে দাগ কাটবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার ভারতে থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি এবার ওপার বাংলার স্থানীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন