সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:২১ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি সম্প্রতি বলেছেন, তেহরানের উচিত নতুন সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করা।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক ক্ষমতা জোরদার করার যে অঙ্গীকার, তারই অংশ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এর আগে শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাফাভি রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে হওয়া চুক্তিটিকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রস্তাব দেন যে, ইরান, ইরাকসহ অন্যান্য দেশও এতে অংশ নিতে পারে।
জেনারেল সাফাভির বিশ্লেষণ হলো, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং ইরাক একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, যা অনেকটা সামরিক জোটের মতো কাজ করবে। তবে, তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের ওপর মার্কিন প্রভাব এ ধরনের উদ্যোগকে সীমিত করে দিতে পারে।
চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে সৌদি আরব এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান রিয়াদে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এক দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণকে অপর দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে ভীত হয়েছে ভারতও, বিশেষ করে কাতারে ইসরায়েলের হামলার এক সপ্তাহ পরই তাদের দশকের পুরোনো নিরাপত্তা অংশীদারত্বকে শক্তিশালী করার উদ্যোগের পর।
যদিও রিয়াদ জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিটি নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বেশ প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল।
অন্য প্রসঙ্গে সাফাভি জানান, জুনের সংঘাতের সময় ইরান ৫০০টিরও বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল। তবে বিমান প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসেনি। তিনি দাবি করেন, বিদেশি মূল্যায়নে দেখা গেছে, ৬০% মানুষ মনে করে ইসরায়েল তার লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায় ইরান জিতেছে।
সাফাভি আরও বলেন, শত্রুরা হাইফার শোধনাগার এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরানের আক্রমণ সহ্য করতে পারেনি। ইরান ক্ষতিগ্রস্ত রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ করছে এবং আক্রমণাত্মক ক্ষমতা অবশ্যই বাড়ানো হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়নি, তাই কূটনীতি, মিডিয়া এবং সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন