ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ১২:০২ পিএম
কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিষ্কার করে, বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে এবং খনিজ পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিডনির সুরক্ষার জন্য সাধারণত আমরা লবণ ও প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলি।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু খাবার আছে যা আমরা স্বাস্থ্যকর বলে মনে করলেও, অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং নীরবে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
যেসব খাবার ঘন ঘন বা ভারসাম্যহীনভাবে খেলে কিডনি সমস্যায় পড়তে পারে:১. অতিরিক্ত প্রোটিন (চর্বিহীন মাংস এবং প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট)
প্রোটিন পেশী গঠনে সাহায্য করলেও, শরীর যখন প্রোটিন ভেঙে ফেলে, তখন যে বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় তা অপসারণের জন্য কিডনিকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
সুস্থ ব্যক্তি: পরিমিত প্রোটিন গ্রহণ ঠিক আছে।
কিডনি রোগী: কিডনি সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনির ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করতে পারে।
২. উচ্চ অক্সালেটযুক্ত সবজি
পালং শাক, বিট ও মিষ্টি আলু ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হলেও এগুলোতে উচ্চ মাত্রায় অক্সালেট থাকে।
ঝুঁকি: কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য উচ্চ অক্সালেট গ্রহণ করা ক্ষতিকর। প্রতিদিন সকালে পালং শাকের স্মুদি পান করার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও কিডনির ভেতরে পাথর তৈরি করতে পারে।
৩. উচ্চ পটাসিয়ামযুক্ত ফল
ফল স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে পটাসিয়াম কিডনির ক্ষতি করতে পারে। সুস্থ কিডনি এই খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু দুর্বল কিডনি অতিরিক্ত পটাসিয়াম ধরে রাখে, যা হৃদস্পন্দনের ছন্দকে প্রভাবিত করে।
উদাহরণ: কলা, কমলা, কিউই, অ্যাভোকাডো, কিশমিশ এবং এপ্রিকটের মতো শুকনো ফল।
৪. ডাবের পানি
ডাবের পানি প্রাকৃতিক, হাইড্রেটিং এবং ব্যায়ামের পরে দুর্দান্ত হলেও এটি পটাসিয়ামে ভরপুর।
সতর্কতা: যাদের ইতিমধ্যেই কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের জন্য প্রতিদিন ডাবের পানি পান করার অভ্যাস কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে।
৫. দুগ্ধজাত খাবার (দুধ, পনির এবং দই)
দুগ্ধজাত খাবারে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকলেও এতে ফসফরাসের মাত্রাও বেশি থাকে।
ঝুঁকি: কিডনি যদি সঠিকভাবে ফসফরাস ফিল্টার করতে না পারে, তবে উচ্চ ফসফরাসের মাত্রা হাড়কে দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
৬. বাদাম এবং বীজ
এগুলোতে পুষ্টি এবং হৃদপিণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকলেও, উচ্চ পরিমাণে ফসফরাস এবং অক্সালেট থাকে। কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বা কিডনিজনিত সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য বাদাম ও বীজ গ্রহণ উপকারী নাও হতে পারে।
৭. গাঁজানো খাবার (আচার, কিমচি)
গাঁজানো খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও, এগুলোতে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে।ঝুঁকি: অতিরিক্ত লবণ কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং রক্তচাপ বাড়ায়, যা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর।
পরামর্শ: কিডনিকে সুস্থ রাখতে এই খাবারগুলো পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। যদি আপনার কিডনিজনিত কোনো রোগ থাকে, তবে খাদ্য তালিকা চূড়ান্ত করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন