জুন ৩০, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
গরমের তীব্র মৌসুমে পাকা আম ও দুধের সুস্বাদু সংমিশ্রণে তৈরি ম্যাঙ্গো মিল্কশেক বা স্মুদি অনেকেরই অন্যতম প্রিয় একটি পানীয়। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই একটি বড় প্রশ্ন থাকে যে আমের সঙ্গে দুধ একসাথে মিশিয়ে খাওয়া কি শরীরের জন্য আদৌ ভালো নাকি মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশীয় পুষ্টিবিদদের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য মতামত অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে পাকা আম ও দুধ একসঙ্গে খাওয়ায় সাধারণত মানবদেহে কোনো গুরুতর সমস্যা হয় না।
সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে এই দুটি পুষ্টিকর উপাদান একসাথে গ্রহণ করলে শরীরে নানা ধরনের ইতিবাচক স্বাস্থ্য উপকারিতা মিলতে পারে।পুষ্টিবিদরা জানান যে পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা এবং দুধে উচ্চ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে যা মানবশরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে দারুণ সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। দুধে বিদ্যমান প্রভূত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও প্রোটিন মানুষের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখার পাশাপাশি পেশির গঠন ও পুনর্গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া পাকা আমে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং মানুষের ত্বক ও চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিশেষভাবে সহায়ক হয়। বিশেষ করে যাদের শরীরের স্বাভাবিক ওজন কম এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য আম ও দুধের এই পুষ্টিকর মিশ্রণটি একটি চমৎকার উচ্চ ক্যালোরি-সমৃদ্ধ খাবার হতে পারে।তবে আম ও দুধের এই চমৎকার সংমিশ্রণটি সবার শরীরের জন্য সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে বলে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করেছেন।
বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের সমস্যা রয়েছে, তারা এই মিশ্রণটি খেলে পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত গ্যাস বা ডায়রিয়ার মতো হজমজনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আমে থাকা উচ্চ প্রাকৃতিক চিনির কারণে এর পরিমাণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া উচিত এবং অতিরিক্ত কৃত্রিম চিনি বা আইসক্রিম মিশিয়ে খেলে শরীরের ক্যালোরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এই পুষ্টিকর পানীয়টি তৈরির সময় সবসময় ভালোভাবে পাকা ও পরিষ্কার আম এবং তাজা ঠান্ডা দুধ ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি যুক্ত না করার সাধারণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন