এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার হচ্ছে তা সঠিক নয়। শনিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে মতবিনিব্যয়কালে তিনি এই দাবি করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, টাকা ছাপিয়ে বাজারে কৃত্রিম মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে সরকার কোনোভাবেই মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে চায় না।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বর্তমান প্রশাসনের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।
তাঁর মতে, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা এবং নতুন টাকা ছাপানো থেকে পুরোপুরি সরে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। অর্থনীতির ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমাতেই এই কৃত্রিম মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় গুটিকয়েক মানুষের হাতে জাতীয় অর্থনীতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে অর্থনীতিকে উদ্ধার করে একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকার জনস্বার্থে কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাজেটের আকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং প্রবৃদ্ধির হারকে ত্বরান্বিত করতে বাজেটের আকার বড় করার কোনো বিকল্প নেই। তবে এই বরাদ্দের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সরকার রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে এই দুই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো বাজেটে প্রতিফলিত করার আশ্বাসও দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের বাজেটে ঘাটতি কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন