বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, মিলেছে স্বস্তির খবরও

জাতীয় ডেস্ক

মে ৬, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, মিলেছে স্বস্তির খবরও

পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে নিম্ন আয়ের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের ওপর সরাসরি চাপ না দিতে তাদের জন্য মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক সভায় পিডিবির এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। কমিশন ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করতে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, প্রস্তাবগুলো বর্তমানে প্রযুক্তিগত কমিটির পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে আগামী ঈদুল আজহার আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সাধারণত প্রস্তাব অনুমোদনের পর জুন মাস থেকে নতুন দর কার্যকর হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

বর্তমানে দেশে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাইকারির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা হয়। ইতোমধ্যে পাঁচটি বিতরণ সংস্থার মধ্যে একটি কোম্পানি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বাকি বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রস্তাবও দ্রুত জমা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-ও ইতোমধ্যে খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। পাশাপাশি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ১৬ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এই চার্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিতরণ সংস্থার কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা।

কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সব প্রস্তাব প্রথমে কারিগরি কমিটি মূল্যায়ন করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। শুনানিতে প্রস্তাবগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করার পর কমিশন তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। মূলত বিদ্যুৎ খাতে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি কমাতে এবং সরকারি ভর্তুকি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই দাম নির্ধারণ করা হবে।

বর্তমানে পিডিবি সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে পাইকারি দামে বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করে। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যের কারণে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে সরকারকে বড় অংকের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো সরাসরি ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে মুনাফা করে এবং তারা কোনো ভর্তুকি পায় না।