এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
প্রায় তিন মাস পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাত সাড়ে আটটায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা শুরু হয়। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত হয়ে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।
দীর্ঘদিন পর এই নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় দলের তৃণমূল পর্যায়েও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ৯ জানুয়ারি বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত আজকের এই সভাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান ইস্যু সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দল পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন এবং সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা।
এসব বিষয়ে দলের হাইকমান্ড থেকে নতুন ও কার্যকর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে।স্থায়ী কমিটির এই সভায় সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এছাড়া দেশের বাইরে অবস্থান ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে নজরুল ইসলাম খান এবং বেগম সেলিমা রহমান ভার্চুয়ালি এই সভায় যুক্ত হয়েছেন। তবে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, তিন মাস পর এই বৈঠক হওয়ায় এতে দলের অনেকগুলো ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে নীতিনির্ধারকরা খোলামেলা আলোচনা করছেন।
বৈঠক শেষে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী আসন এবং সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে বিএনপির বর্তমান অবস্থান আগামী দিনের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নির্বাচনের পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণে এই সভার গুরুত্ব অপরিসীম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাংগঠনিক পরিবর্তনের ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা ও বর্তমান অধ্যাদেশ বাতিল ইস্যুতেও এই বৈঠকে জ্যেষ্ঠ নেতারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন। সব মিলিয়ে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়কে ঘিরে এখন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন