নভেম্বর ২০, ২০২৫, ০৮:৪০ পিএম
ঘুম মানুষের জীবনের এক অপরিহার্য অংশ, যা সারাদিনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করে প্রশান্তি এনে দেয়। ইসলামে ঘুমকে শুধু শারীরিক বিশ্রাম নয়, বরং আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
"আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, রাত্রিকে করেছি আবরণ।" মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন তার আত্মা এক রহস্যময় জগতে প্রবেশ করে এবং স্বপ্নের মাধ্যমে নানান অভিজ্ঞতা লাভ করে।
ইসলামি শিক্ষায় স্বপ্নকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: প্রথমত, আর-রু’ইয়া বা কল্যাণকর ও সত্য স্বপ্ন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা সতর্কতা হিসেবে আসে।
আর দ্বিতীয়ত, আল-হুলম বা দুঃস্বপ্ন, যা শয়তানের প্ররোচনায় সৃষ্টি হয় এবং মানুষকে ভয় দেখানো বা বিভ্রান্ত করার জন্য আসে।সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, স্বপ্নে নিজের মৃত্যু দেখা মানেই পরিবারের কারও মৃত্যু হবে বা নিকট ভবিষ্যতে অমঙ্গল ঘটবে। তবে ইসলাম এ ধরনের সরল ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে না। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার নিয়মিত প্রশ্নোত্তর আলোচনায় স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বপ্নে নিজের মৃত্যু দেখলেই যে কেউ মারা যাবে, বিষয়টি এমন নয়।
বরং এর ভিন্ন অর্থ হতে পারে; এমনও হতে পারে যে এর দ্বারা স্বপ্নদ্রষ্টার হায়াত বা আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। একারণে স্বপ্নের ব্যাখ্যা একমাত্র তাদের কাছেই জানতে চাওয়া উচিত, যারা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং শরিয়ত সম্পর্কে ভালো বুঝেন।রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের নির্দেশনা থেকে জানা যায় যে, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, আর ভয়ংকর বা দুঃখজনক স্বপ্ন শয়তানের প্ররোচনা মাত্র। হাদিসে বলা হয়েছে, খারাপ স্বপ্ন দেখলে দ্রুত আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ পরামর্শ দেন, কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখলে অস্থির না হয়ে কাউকে তা বলা উচিত নয়। বরং আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলা এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করা যেতে পারে। তিনি দাবি করেন, শয়তান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষকে পেরেশানিতে রাখার জন্য খারাপ স্বপ্ন দেখায়।
আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসেও একই নির্দেশনা এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তার ক্ষতি ও শয়তানের ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে, তিনবার থু থু ফেলতে হবে এবং কারও কাছে বর্ণনা করা যাবে না। তাহলে এ স্বপ্ন আর কোনো ক্ষতি করবে না।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন