মার্চ ১০, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
রমজান মাসের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। এ বছর মঙ্গলবার অর্থাৎ ১০ মার্চ ২০ রমজান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিকাফ শুরু হবে। মূলত রমজানের শেষ দশদিন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জাগতিক কাজ থেকে বিরত থেকে মসজিদে অবস্থান করাকেই ইতিকাফ বলা হয়।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ২০ রমজান মঙ্গলবার সূর্যাস্তের আগমুহূর্তে ইতিকাফকারীদের নিজ নিজ মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। শাওয়াল মাসের তথা পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত এই ইবাদত চলবে।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ হচ্ছে এমন এক ইবাদত যেখানে কোনো ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদে আবদ্ধ রাখেন। এটি সমাজের পক্ষ থেকে সুন্নাতে মোয়াক্কাদায়ে কিফায়া হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ সমাজের কোনো একজন ব্যক্তি ইতিকাফে বসলে তা সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন নিয়মিত ইতিকাফ করতেন। সাহাবায়ে কেরামও ইবাদতের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। বিশেষ করে পবিত্র লাইলাতুল কদর পাওয়ার আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই নির্জন ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন।হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন।
তবে তার ইন্তেকালের বছরে তিনি ২০ দিন ইতিকাফে কাটিয়েছিলেন। ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য অর্জন করা। যারা ইতিকাফে বসবেন তাদের অবশ্যই সূর্যাস্তের আগেই মসজিদে উপস্থিত হতে হবে যাতে পূর্ণ দশদিনের সময়কাল সঠিকভাবে বজায় থাকে। ইতিকাফের ফজিলত ও নিয়মাবলি সম্পর্কে স্থানীয় মসজিদের ইমাম বা আলেমদের সঙ্গে আগেভাগে পরামর্শ করে নেওয়া উত্তম বলে মনে করছেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন