শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

কোরবানির ঈদে মহানবীর ৭টি শিক্ষা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

কোরবানির ঈদে মহানবীর ৭টি শিক্ষা

ঈদুল আজহা

পবিত্র ঈদুল আজহা কেবল পশু জবাইয়ের উৎসব নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য এবং ত্যাগের এক সুগভীর পরীক্ষা। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পবিত্র জীবনে এই ঈদকে কেন্দ্র করে সাতটি অনন্য শিক্ষা রয়েছে যা মুসলিম উম্মাহর জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হয়। ত্যাগের ঐতিহ্য ও মানবিক মর্যাদার এই দিকগুলো নবীজির সুন্নাহর মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছে। 

কোরবানির মূল দর্শন মূলত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর সেই অসীম ত্যাগের মহিমাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর সামনে বিসর্জন দেওয়াই হলো কোরবানির প্রকৃত সার্থকতা।

দশম হিজরির বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (স.) মানুষের জান, মাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি শিখিয়েছেন যে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা ঈমানের দাবি। শুধু সামর্থ্যবানরাই নয়, যারা কোরবানি দিতে অক্ষম তাদের প্রতিও নবীজির অগাধ মমতা ছিল। 

তিনি প্রতি বছর একাধিক পশু কোরবানি করতেন যার একটি উৎসর্গ করা হতো কোরবানি দিতে না পারা উম্মতদের পক্ষ থেকে। উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার এই রীতিই ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য।সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও ইসলাম কঠোর নির্দেশনা দেয়। নবীজি (স.) জবাই করার সময় পশুকে কষ্ট না দেওয়ার জন্য ছুরি ধারালো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আবার কোরবানির গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রেও তিনি এক সুশৃঙ্খল কাঠামো তৈরি করেছেন। নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি অভাবী ও আত্মীয়দের মধ্যে এই গোশত বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি পায়। তবে বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং আল্লাহর কাছে কেবল বান্দার তাকওয়াই পৌঁছায়।

পশুর মাংস বা রক্ত নয়, বিশুদ্ধ নিয়ত ও তাকওয়াই কোরবানির মূল চাবিকাঠি। নবীজি (স.) ঈদুল আজহার দিন নামাজের আগে কিছু খেতেন না। নামাজ শেষে নিজের কোরবানির মাংস দিয়েই দিনের প্রথম আহার গ্রহণ করতেন। এই ছোট শৃঙ্খলার মাধ্যমে তিনি ধৈর্য এবং আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি শুকরিয়া আদায়ের শিক্ষা দিয়েছেন। আত্মশুদ্ধি ও সৃষ্টির প্রতি মমত্ববোধের এই চর্চা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলেই কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়িত হয়।