বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

পর্যটনের নতুন সম্ভাবনায় সেজেছে পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৯, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

পর্যটনের নতুন সম্ভাবনায় সেজেছে পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান

সাজছে পাহাড়কন্যা বান্দরবান

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার বান্দরবানে পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পথ তৈরি হচ্ছে। পাহাড়, মেঘ আর সাঙ্গু নদীর অপার্থিব মিতালি উপভোগ করতে প্রতি বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় নামে এই পার্বত্য জেলায়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পর্যটন খাতের উল্লেখযোগ্য সাফল্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন এই শিল্পকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তথ্যমতে, গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস বান্দরবানের পর্যটন খাতে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে। জেলার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে কোনো কক্ষ খালি ছিল না। পর্যটকবাহী যানবাহন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও এই সময়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করেছেন। 

তবে রমজান মাসে পর্যটকের সংখ্যা সাময়িকভাবে কমে আসায় এই সময়টিকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যয় করছেন সংশ্লিষ্টরা। আসন্ন ঈদুল ফিতর ও পরবর্তী পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে হোটেল-রিসোর্টগুলো নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। 

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও আরামদায়ক করার চেষ্টা চলছে।বান্দরবান হোটেল-মোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শীত মৌসুমে ব্যবসায়িক সাফল্য পাওয়ার পর এখন পরবর্তী বড় মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পর্যটন উদ্যোক্তাদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন বিকশিত হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ডিংয়ের অভাব রয়েছে। এছাড়া জটিল ভিসানীতি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে তারা মনে করেন।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের ইকো-রিসোর্ট ও হোম-স্টে গড়ে তোলার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প বিশ্বদরবারে পরিচিতি পাবে। পাহাড়ের বর্তমান নিস্তব্ধতা মূলত পর্যটন খাতের একটি বড় উল্লম্ফনের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।