জুন ৬, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ভিডিও আদান-প্রদানের জনপ্রিয় মাধ্যম ইউটিউব দেখে বিদেশি ফল আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জুয়েল মিয়া। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য ও দৃশ্য দেখে তিনি স্থানীয় মাটিতে এই সুস্বাদু ফলের বাম্পার ফলন ঘটিয়েছেন।
প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় এমন ফলের বাগান দেখতে এবং সতেজ আঙুরের স্বাদ নিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের মানুষ।তার বাগানে এখন মোট গাছের সংখ্যা ১১০টি।
কুড়িগ্রামের এক চাষীর বাগান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গত ২০২৪ সালে মাত্র পাঁচটি চারা সংগ্রহের মাধ্যমে জুয়েল এই আঙুর চাষের কাজ শুরু করেছিলেন। দুই বছরের ব্যবধানে তার বাগানের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি চলতি মৌসুমে ৩০টি গাছে একযোগে ব্যাপক ফলন এসেছে।
এর আগে তিনি ২০২০ সালে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ করে সফল হলেও আপেল চাষে কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। কিন্তু সেই ব্যর্থতায় দমে না গিয়ে ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আঙুর চাষে সফলতা দেখিয়েছেন।পঁচিশ শতক জমিতে এই পুরো বাগান তৈরি করতে জুয়েল মিয়ার খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। দীর্ঘমেয়াদী এই কৃষি প্রকল্প থেকে আগামী ৪০ বছর পর্যন্ত নিয়মিত ফলন পাওয়ার আশা করছেন এই সফল চাষী। বাগান পরিদর্শনে আসা প্রতিবেশীরা জানান, আগে তারা বাজার থেকে কিনে আঙুর খেলেও এখন নিজেদের এলাকায় গাছ থেকে সরাসরি সতেজ ফল পেড়ে খাওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন যা তাদের জন্য আনন্দের।
বাগানটির বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে তারা সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ রোস্তম আলী জানান, দোআঁশ মাটি ও সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে গাইবান্ধায় আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। উপযুক্ত পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে মনে করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এই তরুণ উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করতে এবং চাষাবাদ অব্যাহত রাখতে সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ নিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন