ফাহিম হোসেন রিজু
নভেম্বর ১, ২০২৫, ১২:০৯ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গত দু’দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কৃষিখাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। মাঠজুড়ে পেকে ওঠা আমন ধান ঝড়ে নুয়ে পড়েছে এবং আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
উপজেলার কানাগাড়ী, ডুগডুগি, শৌলা ও রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা জানিয়েছেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের আমন ধান কেটে ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু ভারী বর্ষণ ও দমকা বাতাসে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বুলাকীপুর ইউনিয়নের বরাতীপুর গ্রামের কৃষক আইনুল মিয়া বলেন, “ধান প্রায় কাটার মতো হয়ে গিয়েছিল। এই বৃষ্টি সব শেষ করে দিলো। এখন ধান শুকাতে সমস্যা হবে, আর পানিতে পড়া ধানের দানা কমে যাবে। লোকসান ছাড়া কিছুই দেখছি না।”এদিকে, ভারী বর্ষণে এলাকার শীতকালীন সবজির আবাদও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আলুর নতুন চারা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, মুলা ও বেগুনসহ বিভিন্ন ফসলের খেতে পানি জমে যাওয়ায় তা পচে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পালশা ইউনিয়নের উচিতপুর গ্রামের কৃষক শাহীন আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক আশা করে আগাম আলু লাগাইছি। খেতে পানি জমে থাকলে সব চারা পচে যাবে। এখন কী করবো, কিছুই বুঝতে পারতেছি না।”ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এবং খেত থেকে পানি নিষ্কাশন করা না গেলে ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে। কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ক্ষতি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কাজ করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান জানান, “বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কৃষকদের সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যেসব খেতের ধান নুয়ে পড়েছে, সেখান থেকে পানি বের করে যত দ্রুত সম্ভব ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”ফসলের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।