সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

ফুলবাড়ী সীমান্তে মানব ও শিশু পাচারকালে ভারতীয় নাগরিকসহ আটক ৬

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৭, ২০২৫, ০৬:৪০ পিএম

ফুলবাড়ী সীমান্তে মানব ও শিশু পাচারকালে ভারতীয় নাগরিকসহ আটক ৬

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্তে পাচারকালে মানব, নারী ও শিশু পাচার চক্রের সদস্য এক ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ৬ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২৯ বিজিবি, ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন)।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার রসুলপুর বিওপি'র বিজিবির একটি টহলদল উপজেলার রসুলপুর (পলিপাড়া) গ্রামের মৃত জাহিরুল চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১টার দিকে রসুলপুর বিওপি সীমান্ত ফাঁড়ীতে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম জাবের বিন জব্বার। এরপর রাতেই আটককৃতদের ফুলবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়।শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে বিজিবি বাদী হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করে এবং তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।আটককৃতদের পরিচয় ও পাচারের কৌশল

আটককৃতরা হলেন:নেপাল বর্মণ (২৯): ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মারগ্রাম গ্রামের নাগরিক।জলি রাণী (৩০): নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার শালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং তার দুই মেয়ে তনুশ্রী রাণী (১০) ও রাজশ্রী রাণী (৩)।বিজন কুমার দাস (৫৫) ও তার স্ত্রী শ্রীমতি লিপি রাণী দাস (৪৭): পত্নীতলার বড়চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিক নেপাল বর্মণ ২০২২ সাল থেকে বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নারী ও শিশু পাচার করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২২ অক্টোবর হিলি চেকপোর্ট দিয়ে বাংলাদেশে এসে দুই সন্তানের জননী জলি রাণীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ২৬ অক্টোবর কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেন।

পরবর্তীতে পাচারের উদ্দেশ্যে তার বিবাহিত স্ত্রী জলি রাণীকে তার দুই সন্তানসহ এবং বিজন কুমার দাস ও তার স্ত্রী শ্রীমতি লিপি রাণীকে ভারতে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৪ নভেম্বর ফুলবাড়ী উপজেলার রসুলপুর গ্রামে নিয়ে আসেন। নেপাল বর্মণ বৈধভাবে ভারতে গমনাগমন করলেও ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে নারী ও শিশুসহ ৫ জনকে ভারতে পাচারের জন্য রসুলপুর গ্রামের বাড়িতে একত্রিত হন।

বিজিবি সূত্র জানায়, নেপাল বর্মণ বাংলাদেশের বিরামপুর উপজেলার কাটলা বাজার এলাকার ভোলা, রোস্তম ও শহিদুল নামে তিন পাচারকারীর সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিজিবি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হবে। বিজিবি এই ঘটনার জন্য ভারতীয় বিএসএফ ব্যাটালিয়নকে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে।