এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:২১ এএম
পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে মহাকাশের শুরু ঠিক কোথায়, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গবেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌতূহল রয়েছে। মহাকাশ বলতে আমরা যে বিশাল শূন্যতাকে বুঝি, তা আসলে হুট করে কোনো দেয়াল বা নির্দিষ্ট সীমানা দিয়ে শুরু হয় না। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল উপরের দিকে যেতে যেতে ক্রমশ পাতলা হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা মহাকাশের অসীম শূন্যতায় রূপ নেয়।
তবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও মহাকাশ গবেষণার স্বার্থে একটি নির্দিষ্ট সীমানাকে মহাকাশের শুরু হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে স্বীকৃত সীমানাটির নাম হলো কারমান রেখা।
এই বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুযায়ী, পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বা ৬২ মাইল উচ্চতায় গেলেই মহাকাশ শুরু হয়েছে বলে ধরা হয়। এই বিশেষ উচ্চতায় বায়ুমণ্ডল এতটাই পাতলা হয়ে যায় যে সাধারণ বিমান সেখানে আর উড়তে পারে না।
বাতাসের অভাবে বিমানের ডানা কোনো কাজ করতে পারে না বলে সেখানে চলাচলের জন্য বিশেষ রকেট প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। ১৯৫০-এর দশকে হাঙ্গেরীয়-মার্কিন পদার্থবিদ থিওডোর ফন কারমানের নামানুসারে এই সীমানার নামকরণ করা হয়েছে।তবে মহাকাশের এই সীমানা নিয়ে বিশ্বের সব সংস্থার মধ্যে একক কোনো ঐক্যমত নেই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং দেশটির সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করে।
তাদের মতে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল উচ্চতা থেকেই মহাকাশের শুরু ধরা উচিত। তাদের এই ভিন্ন সংজ্ঞার কারণে অনেক সময় দেখা যায়, ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পার করা ব্যক্তিদেরও তারা মহাকাশচারী বা অ্যাস্ট্রোনট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দেন। তাদের মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল কোনো একটি বিন্দুতে এসে হঠাৎ করে শেষ হয়ে যায় না।
বরং উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এ কারণেই মহাকাশের শুরু কোনো নির্দিষ্ট রেখা বা দেয়াল নয়, এটি একটি গাণিতিক ও কৌশলগত সীমানা মাত্র। সহজ কথায় বলতে গেলে, আকাশ ও মহাকাশের মধ্যে পার্থক্যটি মূলত উচ্চতা এবং বায়ুর ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। মানুষের তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশযানগুলো মূলত এই কারমান রেখার ওপর ভিত্তি করেই তাদের কক্ষপথ নির্ধারণ করে থাকে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন