নভেম্বর ১০, ২০২৫, ০৪:০৬ পিএম
শতভাগ উৎসব ভাতা নিশ্চিতকরণসহ মোট আট দফা দাবি জানিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। এই দাবিগুলো সরকার অবিলম্বে মেনে না নিলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মচারী জাতীয় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় প্রতিনিধি সভা এবং সেই সভা থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও মহাসমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করার কথা জানানো হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে আসন্ন ঈদের পূর্বেই কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান করা। এছাড়াও, গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে কর্মচারীদের একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তকরণ, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ পেনশন ব্যবস্থা চালু, কর্মচারীদের জন্য সার্বজনীন বদলির ব্যবস্থা এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম দুইজন নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়ার মতো বিষয়গুলি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান (আদনান হাবীব)। এসময় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্মচারীদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলস্বরূপ ২০০৪ সালে তৎকালীন জোট সরকার কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদান করে।
তবে সম্প্রতি সরকার শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধি করলেও কর্মচারীদের কোনো ভাতা বৃদ্ধি করেনি, যা একটি নজিরবিহীন ঘটনা এবং কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তিনি আগামী ঈদে কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
তাদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবির মধ্যে রয়েছে—কর্মচারীদের ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতাসহ শিক্ষাভাতা, টিফিনভাতা এবং সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় বাড়ি ভাড়া প্রদান, ল্যাব সহকারী কর্মচারীদের ৩য় শ্রেণি কর্মচারী হিসেবে পদায়ন, নন-এমপিও কর্মচারীদের অবিলম্বে এমপিওভুক্তকরণ, ৯ম পে-স্কেলে ১:৪ অনুপাত বাস্তবায়ন, ৩য় শ্রেণি কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন করে ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পদবি হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ এবং যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৪র্থ কর্মচারীদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মচারী চাকরি বিধি ২০১২ প্রবিধান জারি করলেও শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অজ্ঞাত কারণে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে কর্মচারী প্রতিনিধি রাখার বিধানটি অদ্যাবধি বাস্তবায়ন করেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অবিলম্বে এই বিধি বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এছাড়াও তিনি অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের নীতিমালা সংস্কার করে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ পেনশন ব্যবস্থা চালু করার এবং শিক্ষকদের ওপর অনাবশ্যক চাঁদা আদায়ের নীতিমালার বিরোধিতা করেন। তিনি আরও বলেন, নৈশপ্রহরী ও নিরাপত্তা কর্মীরা মানবিক জীবনযাপন করেন না, তাই তাদের জন্য প্রতি প্রতিষ্ঠানে ২ জন নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
দাবি আদায়ে ১৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এছাড়াও, ২১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণসংযোগের মাধ্যমে জনমত তৈরির কর্মসূচি রয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন