রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘অপমানবোধ’ করছেন, ভোটের পরে সরে যেতে চান রাষ্ট্রপতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ০৮:৫৩ পিএম

‘অপমানবোধ’ করছেন, ভোটের পরে সরে যেতে চান রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জাতীয় নির্বাচনের পর পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি অপমানিত বোধ করছেন।

এটি দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার। ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি চলে যেতে আগ্রহী।

আমি বেরিয়ে যেতে চাই।’রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক কারণে তার পদে থাকা উচিত। তিনি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করেননি এবং সেপ্টেম্বরে বিশ্বের সব বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি ছিল, আর এক রাতের মধ্যে হঠাৎ সব সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায় যে, সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি ভীষণ অপমানিত বোধ করেছি।’উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

তবে এই পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক এবং দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার কাছেই থাকে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার পর এবং সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর সাহাবুদ্দিনই তখন শেষ অবশিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে আলোচনায় আসেন। তিনি ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি জানান, যদিও কিছু ছাত্র বিক্ষোভকারী প্রথম দিকে তার পদত্যাগ দাবি করেছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দল আর তার পদত্যাগ দাবি করেনি। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে সাহাবুদ্দিন কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন ছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আর যুক্ত নন।