জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাজনিত কারণে নয়াদিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি বিবিসি হিন্দিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভারত বাংলাদেশকে এখন ‘পরিবার-বহির্ভূত’ দেশ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সুদানের সমপর্যায়ে রেখেছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশকে এই স্তরে রাখতে চায়, তবে সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে ভারতের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়েছে, নয়াদিল্লি অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া দেখায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের কাছ থেকে আরও পরিপক্ক ও ইতিবাচক সাড়া আশা করেছিল বাংলাদেশ। তৌহিদ হোসেনের মতে, ভারতের এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য শুভ নয়।দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, দুই দেশ যদি আসলেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে একে অপরের প্রতি আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
একের পর এক এমন নেতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলে সম্পর্ক ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক। উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। যদিও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন ও সহকারী মিশনগুলো যথারীতি খোলা থাকবে, তবে কূটনীতিকদের পরিবারের প্রস্থান একটি বিশেষ বার্তা বহন করছে।
ভারত সরকারের এই শ্রেণি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবার সঙ্গে রাখার অনুমতি থাকবে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বারবার আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও ভারতের এই ‘নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা’ কূটনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন