জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১০:২৫ এএম
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে ভবিষ্যতের সকল নির্বাচনের জন্য একটি অনন্য মানদণ্ড বা রোল মডেল স্থাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তিনি আশা করেন এটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
দীর্ঘ এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইন সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক কূটনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ড. ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ায় সার্ক পুনরুজ্জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আসিয়ান-এর সদস্যপদ লাভে বাংলাদেশের পরিকল্পনার কথা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের সংস্কার কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এই সুবিধা আরও বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনও নতুন শ্রম আইনের প্রশংসা করে বলেন, কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অন্যতম মূল স্তম্ভ। এছাড়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস।
সাক্ষাৎকালে সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষকরা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন