জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ভারত। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকায় ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এই বার্তা প্রদান করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ভারত সবসময় একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থক ছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় রাখবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোটের প্রাক্কালে ভারতের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অনুষ্ঠানে প্রণয় ভার্মা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের যৌথ ত্যাগের ইতিহাসের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলার প্রতি অভিন্ন ভালোবাসা দুই দেশের জনগণের বন্ধনকে সুদৃঢ় করেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন আমাদের সংস্কৃতি ও সাহিত্যের শিকড় একই সুতায় গাঁথা। হাইকমিশনার আরও জানান গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সংযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশ যে বৈপ্লবিক উন্নতি করেছে তা পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং সীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ এর উজ্জ্বল উদাহরণ।ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন দুই দেশের তরুণ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠী একে অপরের টেকসই উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল বা ভ্যালু চেইন এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রণয় ভার্মার মতে ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো একসঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি বাংলাদেশের জনগণের আগামী দিনের পথচলায় শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন