জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে কোনো প্রবাসী যদি দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বা ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তবে সেই বিনিয়োগের ওপর ১.২৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে আমাদের বড় শক্তি।
তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশে বড় অংকের বিনিয়োগ আনাই আমাদের লক্ষ্য। উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের ইকুইটি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারেন, তবে সরকার তাকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ প্রণোদনা হিসেবে দেবে।” এই প্রণোদনা অনেকটা রেমিট্যান্সের ওপর দেওয়া বিদ্যমান ক্যাশ ইনসেনটিভের মতোই কাজ করবে।
বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে বিদেশেও বিডার কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রথম পর্যায়ে চীনে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিডার অফিস খোলা হবে। এসব অফিসে কমিশন ভিত্তিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা বিনিয়োগ আনার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পারিশ্রমিক পাবেন।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে আরও একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান। তিনি জানান, বিডা, বেজা, বেপজা, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বিসিক—এই ছয়টি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করে একটি একক কাঠামো বা ‘সিঙ্গেল আমব্রেলা’র আওতায় আনা হবে। এর ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আপাতত এই নতুন সংস্থার নকশা ও আইনগত কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা দেশের শিল্পায়নকে আরও গতিশীল করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন