অক্টোবর ২, ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম
দেশের সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর। অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের জন্য অপেক্ষা না করে, তাদের মেয়াদেই নতুন বেতন কাঠামো অর্থাৎ ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল গেজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে যেতে চায়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, নতুন পে স্কেল ২০২৬ সালের শুরু (জানুয়ারি/মার্চ/এপ্রিল) থেকেই কার্যকর হতে পারে। এর জন্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।
এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই গেজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর জন্য রাজনৈতিক পালাবদলের জন্য অপেক্ষা করা হবে না।সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে গত ২৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে 'জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫' গঠন করা হয়েছে।
সাধারণত কমিশনকে ৬ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়।বর্তমানে কমিশন সর্বসাধারণের মতামত জানতে একটি প্রশ্নমালা উন্মুক্ত করেছে। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে এই প্রশ্নমালা পূরণ করে মতামত জানাতে পারবেন।
নতুন বেতন কাঠামোতে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
-
গ্রেড সংখ্যা: বর্তমানে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড থেকে গ্রেডের সংখ্যা কমিয়ে ১৫টি বা ১২টি করার প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
-
বেতনের অনুপাত: কমিশনের প্রাথমিক চিন্তা হলো, বর্তমানে সর্বোচ্চ (গ্রেড-১) ও সর্বনিম্ন (গ্রেড-২০) বেতনের অনুপাত প্রায় ১০:১। নতুন কাঠামোতেও এই অনুপাত ৮:১ থেকে ১০:১-এর মধ্যে বজায় রাখার সুপারিশ করা হবে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রচলিত।
এছাড়াও জানা গেছে, কমিশন চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে একজন কর্মচারী চাকরির শুরু থেকে অবসর পর্যন্ত মাসে ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। কমিশন এই ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরোত্তর সময়ের জন্যও বাড়তি সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে সন্তানদের শিক্ষা ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন