রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নভেম্বরের শেষে বন্ধ হচ্ছে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম: তথ্য উপদেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৬:৪৩ পিএম

নভেম্বরের শেষে বন্ধ হচ্ছে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম: তথ্য উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার নিয়মিত কার্যক্রম আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রোববার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে এখন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় দেখতে চাওয়ার পর এই প্রথম সরকারের কোনো উপদেষ্টা এমন ধরনের আভাস দিলেন, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন থেকে মোট ২৩টি আশু বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব সরকারের কাছে এসেছে। মন্ত্রণালয়গুলো সেগুলো পর্যালোচনা করে এর মধ্যে ১৩টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘নভেম্বরে ক্যাবিনেট ক্লোজ হয়ে যাবে। যা করার আগামী মাসের মধ্যে করতে চাই।’ এর দ্বারা বোঝা যায়, সরকার নির্বাচনের আগে জরুরি সংস্কার কাজগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিচ্ছে।

মাহফুজ আলম গণমাধ্যম সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ওয়ান হাউজ, ওয়ান মিডিয়া পলিসি’ এবং ‘সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন’ অচিরেই মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে। সরকার অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর জন্য একটি নীতিমালা করে রেখে যাবে এবং যেসব পত্রিকা নিয়মিত ছাপা হয় না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেশিরভাগ লাইসেন্স আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট গ্রুপ বা কোম্পানির মালিকদের দেওয়া হয়েছে, যারা এখনো এগুলোর মালিক এবং বিদেশে বসে লাভের হিসাব করছেন।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আইসিটি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কনটেন্ট নির্মাণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশনার বিষয়টি আইসিটি বিভাগের অধীনে চলে যাবে। ইউটিউবসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান, যা সরকারি নবম গ্রেডের কাছাকাছি হতে পারে।

তিনি প্রচার সংখ্যা কমিয়ে বিজ্ঞাপনের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দেন, তবে প্রচার সংখ্যার সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যেসব পত্রিকা মালিক ন্যূনতম বেতন দিতে পারবেন না, তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বিজ্ঞাপনের হার কমিয়ে দেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জন্য শোভন বেতনের পক্ষে কথা বলেন এবং কিছু সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতার ভূমিকার সমালোচনা করেন।

তিনি ‘ব্যাঙের ছাতার মতো’ গজিয়ে ওঠা নিউজ পোর্টালগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং যারা অন্যের লেখা চুরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকার ইথিকাল বা নৈতিক সাংবাদিকতা দেখতে চায় এবং যারা ভালো সাংবাদিকতায় বিনিয়োগ করছে তাদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।