অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ০৩:৪৬ পিএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকাকে 'সর্বাগ্রে ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ' বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ দেশের আপামর জনগণ এবং রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা পূরণের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পুলিশের কাঁধে। তিনি বলেন, 'সবার প্রত্যাশা বাংলাদেশ পুলিশ সামনের জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।' এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশসহ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইনের প্রয়োগ শুধু শক্তি দিয়ে নয়, বরং ন্যায়, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'নির্বাচনী মাঠে আপনারা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী নন; আপনারা জনগণের নিরাপত্তা, আস্থা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক।' তিনি পুলিশ সদস্যদের কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন, বিশেষ সুবিধা প্রদান বা গ্রহণ করা এবং নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী ভাবা যাবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তারা সমাজ ও রাষ্ট্রে অস্থিরতা সৃষ্টিতে সরাসরি জড়িত।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক অপরাধী জামিনে ছাড়া পেয়ে পুনরায় অপরাধ করছে।
এদের অপকর্ম, অপপ্রচার, অপরাজনীতি এবং ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে গ্রেপ্তার বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। তবে এই প্রক্রিয়ায় নিরীহ মানুষকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অধীনস্থ পুলিশ অফিসার ও ট্রুপসদের পেশাদারত্ব, টিম স্পিরিট, শৃঙ্খলা ও মনোবল বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে। যাদের মধ্যে পেশাদারত্ব নেই বা যারা কমান্ড মানতে চায় না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়াও, জেলা পর্যায়ে ঘনঘন কোর কমিটির সভা আহ্বান, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার, মিথ্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, থানা থেকে লুট হওয়া বা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করা এবং জেলার কেপিআইগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা। তিনি সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড ও সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়েও পুলিশকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।সভায় পুলিশের ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণ সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশের বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন। এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন