অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ১১:৩২ পিএম
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সশস্ত্র বাহিনীসহ প্রায় আট লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন করা হবে।সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার দপ্তরে কমনওয়েলথ ইলেকটোরাল সাপোর্ট সেকশন (ইএসএস) এর একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা জানান।
দুই সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন কমনওয়েলথ (ইএসএস) এর লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ন্যান্সি কানিয়াগো।কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনমুখী এবং এজন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় আট লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। তাছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৮০ হাজার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল সদস্যদের জন্য নির্বাচনী মহড়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের জন্য দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রতিটি নির্বাচন কেন্দ্রের সঙ্গে সুষ্ঠু ও সময়োপযোগী যোগাযোগের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর এবং প্রতিটি জেলায় ‘নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ স্থাপন করা হবে।উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি নির্বাচন কেন্দ্রে সম্ভব হলে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কর্তব্যরত পুলিশের জন্য বডি ওর্ণ ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনে গণমাধ্যমকর্মীরা অবাধে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক দলকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হবে।
কমনওয়েলথ প্রতিনিধি ন্যান্সি কানিয়াগো বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরপরই কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে এবং সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ সুসম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ আমন্ত্রণ জানালে কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষক গ্রুপ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচন পরিচালনায় কমনওয়েলথের কাছে আর্থিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বাচন পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে তারা বিভিন্ন দেশে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছে। তাই প্রশিক্ষণের চেয়ে সিসিটিভি, বডি ওর্ণ ক্যামেরা ও নির্বাচন সংক্রান্ত সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করা হলে তা বেশি ফলপ্রসূ হবে। কমনওয়েলথ প্রতিনিধি এ সময় পুলিশ সদস্যদের মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।
নির্বাচন উপলক্ষে নতুন জনবল নিয়োগের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য নতুন করে ১০ হাজার ২৬৪ জন পুলিশ, ২ হাজার ১৪৫ জন আনসার ও ভিডিপি, ৫ হাজার ৫১৩ জন বিজিবি এবং ৬৩৪ জন কোস্টগার্ড সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আইন মন্ত্রণালয় চাইলে এ বিষয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। তবে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বর্তমানেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আসন্ন নির্বাচনে জনগণ অবাধে, নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন