অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০১:০৯ পিএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই দলগুলো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অভিযুক্তদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শুরু থেকেই সরকারে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসলেও বিএনপি এখন কিছুটা নমনীয়। তবে দলটির অভিযোগের নতুন লক্ষ্য সড়ক ও সেতু, রেল এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। এর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদকেও সরাতে বলছে দলটি। বিএনপির অভিযোগ, তারা প্রশাসনে ও পুলিশে নিয়োগ এবং বদলির ক্ষেত্রে জামায়াতকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের অভ্যন্তরে থেকেই পদোন্নতি ও পদায়নের মতো বিষয়গুলো প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এই ব্যক্তিরা পদে থাকলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ড. ইউনূস একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাচ্ছেন এবং বিএনপিও তার সঙ্গে একমত।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। জামায়াতের আপত্তির তালিকায় রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দন মাহমুদ এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেছেন, এই উপদেষ্টারা প্রশাসনের শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন এবং উল্টো জামায়াতের ওপর মন্ত্রণালয় দখলের মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
এনসিপি জামায়াতের আপত্তির তালিকার সঙ্গে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের নামও যোগ করেছে। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সরকারের মধ্যে অনেক উপদেষ্টা আছেন যারা বিএনপি-জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন। এমনটা চলতে থাকলে পুরো উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করার দাবি জানান তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই এই উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছিল, তাই নির্বাচন ঘিরে এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। রাজনীতি বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, দলগুলোর বক্তব্যে কিছুটা বাড়াবাড়ি থাকলেও সরকারের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। নির্বাচনের আগে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন