অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০৩:০৫ পিএম
আজ ২৮ অক্টোবর, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় বীর সেনানী, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের ৫৪তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হন। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী এই বীর সন্তানকে।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শৈশবেই তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়। কৈশোরে মুজাহিদ বাহিনীতে যোগ দিলেও পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রবল আগ্রহ জন্মে। ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন এবং প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামের ইবিআরসিতে যান।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত হামলার শিকার হয় ইবিআরসি। হামিদুর রহমানসহ কিছু সংখ্যক রিক্রুট সেখান থেকে পালিয়ে প্রথমে নিজ বাড়িতে ও পরে যশোরের চৌগাছায় অবস্থানরত প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তার সৈনিক নম্বর ছিল ৩৯৪৩০১৪। অসীম সাহস ও কর্মদক্ষতার কারণে তাকে কম্পানি কমান্ডারের রানার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সিপাহী হামিদুর রহমানের জীবনের শেষ যুদ্ধ ছিল ঐতিহাসিক ধলই যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভোরে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কম্পানিকে ধলই বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) দখলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর ৩০ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এবং এক কোম্পানি রাজাকার সেখানে অত্যন্ত সুরক্ষিত বাংকারে অবস্থান নিয়েছিল। তাদের বাংকারগুলো আর্টিলারি আক্রমণ প্রতিরোধেও সক্ষম ছিল এবং পোস্টের সামনে পুঁতে রাখা হয়েছিল মাইন ও পাঞ্জি।
হামিদুর রহমান সহযোদ্ধাদের নিয়ে বিওপি দখলের জন্য এগিয়ে যান। কিন্তু পোস্টের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একটি লাইট মেশিনগান (এলএমজি) বাংকার থেকে তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু হলে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে সিপাহী হামিদুর রহমান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একাই সেই এলএমজি পোস্ট ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি ক্রল করে বাংকারের দিকে এগিয়ে যান এবং দুটি গ্রেনেড সফলভাবে বাংকারে নিক্ষেপ করেন। এতে এলএমজি পোস্টটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং পাকিস্তানি বাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। কিন্তু গ্রেনেড নিক্ষেপের পরপরই শত্রুর একটি গুলি তার কপালে বিদ্ধ হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার এই আত্মত্যাগের ফলেই ধলই বিওপি মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আসে।বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অসামান্য বীরত্ব, সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আমাদের প্রেরণার অফুরন্ত উৎস।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন