রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসলামী ব্যাংক দখল ও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৬, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

ইসলামী ব্যাংক দখল ও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট

ইসলামী ব্যাংক দখল কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাস করার বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি রাষ্ট্রের মাফিয়া শাসনব্যবস্থার এক নির্মম উদাহরণ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধনিক শ্রেণি বা নীতিবর্জিত ব্যবসায়ী মহলের আধিপত্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিই হলো এই ব্যাংকের দখল।মাফিয়া এলিট গোষ্ঠী কীভাবে রাষ্ট্র দখল করে, তা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের গবেষকদের মতে, সোভিয়েত পরবর্তী দেশগুলোতে যেভাবে অলিগার্করা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করেছে, বাংলাদেশেও একই ধরনের এলিট ক্যাপচার দেখা যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। 

অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা নিজেরাই এখন নীতি নির্ধারণের সঙ্গে জড়িত। ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিভিন্ন সংশোধনীতেও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া এটিই প্রমাণ করে।ইসলামী ব্যাংক দখলের পর ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বিচারক, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নিয়ে একটি এলিট অ্যালায়েন্স তৈরি করা হয়। 

এই গোষ্ঠী ব্যাংকের দখলকে বৈধতা দিতে কাজ করেছে। বিভিন্ন মহল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই দখল প্রক্রিয়াকে সহায়তা করেছে। সামগ্রিক দখল প্রক্রিয়ার এটি কেবল একটি সামান্য প্রকাশ মাত্র।বিদ্যুৎ, জ্বালানি থেকে শুরু করে গণমাধ্যম পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই চক্রের আধিপত্য রয়েছে।বিগত পঞ্চান্ন বছরে বাংলাদেশে যেভাবে কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তাতে নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। জুলাই বিপ্লব হলেও শাসনব্যবস্থায় কোনো বড় পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। 

বরং আগের মতো একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। জবাবদিহিতা ছাড়া এই ধরনের নিয়োগ জনমনে হতাশা সৃষ্টি করছে। যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের গুরুত্ব এখন সব ক্ষেত্রে বেশি।সুশাসনে উত্তরণ তাই সহজ হবে না।রাজনীতি শুদ্ধ না হলে সুশাসন অর্জন করা অসম্ভব। জুলাই বিপ্লব আশার আলো দেখালেও এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকভাবে দৃঢ় থেকে সমাজ পরিবর্তনের মূল শক্তিতে পরিণত হতে হবে।