বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,

সরকারি প্রটোকলের গাড়ি ব্যবহার করলেন না জামায়াত আমীর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:০২ এএম

সরকারি প্রটোকলের গাড়ি ব্যবহার করলেন না জামায়াত আমীর

প্রটোকল ফিরিয়ে দিলেন আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শহর সিলেটে প্রথম সফরে গিয়েও সরকারি প্রটোকলের গাড়ি ব্যবহার করেননি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সরকারি গাড়ি ও একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন। 

তবে ডা. শফিকুর রহমান বিনয়ের সঙ্গে সেই সরকারি গাড়িটি ফিরিয়ে দেন এবং সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই সুবিধা গ্রহণ করবেন বলে কর্মকর্তাদের জানান।

বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় অপেক্ষমাণ সরকারি গাড়িটি দেখে জামায়াত আমির কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান এটি সরকারি গাড়ি কি না। যখন নিশ্চিত হন এটি তার প্রটোকলের জন্য আনা হয়েছে তখন তিনি জানান যে আগামী ১২ তারিখ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই তিনি এই সুবিধা গ্রহণ করবেন। 

কর্মকর্তাদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন যে তিনি ক্ষমতার মহড়া বা পাওয়ার এক্সারসাইজ করতে চান না। এই ঘটনার পর তিনি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিমানবন্দর ত্যাগ করেন যা উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সিলেট সফরে এসে দিনভর বেশ কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। জুমার নামাজের আগে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত এক শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। 

পরে নগরীর কুদরতউল্লাহ মসজিদে নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তিনি বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন যে সরকারের মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা সমাজকে অস্থির করে তুলছে। তিনি মনে করেন এ ধরনের মন্তব্য দেশে অপরাধ প্রবণতাকে আরও উসকে দিচ্ছে যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান জানান যে এই বিষয়ে এখনো জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন যে দলের অভ্যন্তরে এই বিষয়ে এখনো বড় পরিসরে আলোচনা করা হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে এবং দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা মাথায় রেখে পরবর্তীতে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংকটের সমাধান কেবল গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

বিকেলে তিনি সুবিদ বাজারে সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ইফতার করেন। পুরো সফরজুড়েই তিনি সাধারণ জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দেন এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তার এই প্রটোকল বর্জনের ঘটনাটি সিলেটের রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।