জুলাই ৭, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় দুই বছর। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কার এবং এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল — তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এখন তীব্র বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।জুলাই মাসের শুরুতে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সামাজিক মাধ্যমকে নিজেদের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা এখন অনলাইনের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য ও বিবৃতি প্রচার করছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করছে। এতে সাধারণ সমর্থক ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করতে চাইছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা এই বিভক্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন।তার মতে, জুলাই অভ্যুত্থানকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করার চেষ্টা সমাজে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের ব্যক্তিগত অবস্থান ও দুর্নীতির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আন্দোলনের সময়কার ছাত্রনেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম জানান, সে সময় জনমত তৈরিতে সামাজিক মাধ্যমে বড় প্রচার চালানো হয়েছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে কর্মসূচি পালনের জন্য অনলাইনে বড় পরিসরে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এখন সেই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অনেকটাই দুর্বল।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বিধিনিষেধ, ভুয়া সমন্বয়ক বিতর্ক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো মানুষকে হতাশ করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই আন্দোলনের পেছনে কি নির্দিষ্ট কোনো দলের মদত ছিল? যারা দুই বছর আগে রাস্তায় নেমেছিলেন, তাদের অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানাচ্ছেন। সব মিলিয়ে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা শক্তিগুলোর মধ্যেও এখন সুস্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন