এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ‘গড অব ক্যাওস’ বা ‘বিশৃঙ্খলার দেবতা’ নামে পরিচিত একটি বিশাল গ্রহাণু। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আগামী তিন বছরের মধ্যেই এটি পৃথিবীর অত্যন্ত কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি মহাকাশ বিজ্ঞানীদের জন্য এই বিশাল বস্তুটি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের এক বিরল ও নজিরবিহীন সুযোগ করে দেবে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘অ্যাপোফিস’ নামের এই গ্রহাণুটির নামকরণ করা হয়েছে প্রাচীন মিসরীয় পৌরাণিক দেবতা ‘গড অব ক্যাওস’-এর নামানুসারে। নাসা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর পাশ দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অতিক্রম করবে।
এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২০ হাজার মাইল দূর দিয়ে যাবে, যা মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কম দূরত্ব। তুলনামূলকভাবে বলা যায়, এটি অনেক কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের চেয়েও পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান করবে। সাধারণত পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকা স্যাটেলাইটগুলো প্রায় ২২ হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে।
নাসা যদিও অ্যাপোফিসকে ‘সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, তবুও সংস্থাটি বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছে যে, ২০২৯ সালে এর অতিক্রমণের সময় পৃথিবীর ওপর আঘাত হানার কোনো সম্ভাবনা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষপথ পর্যালোচনার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, অন্তত আগামী ১০০ বছরের মধ্যে এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর জন্য কোনো বড় ঝুঁকি তৈরি করবে না। অর্থাৎ পৃথিবী, এর বাসিন্দা, মহাকাশচারী কিংবা কক্ষপথে ঘুরে বেড়ানো স্যাটেলাইট—কোনো কিছুর জন্যই এটি বিপজ্জনক হবে না।
মহাকাশ গবেষকদের মতে, এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। এর মাধ্যমে গ্রহাণুর গঠন এবং পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে আরও গভীর তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। নাসা জানিয়েছে, ২০২৯ সালের সেই দিনটিতে যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে পূর্ব গোলার্ধের বাসিন্দারা কোনো টেলিস্কোপ ছাড়াই খালি চোখে এই বিশাল গ্রহাণুটি আকাশে দেখতে পাবেন। বর্তমানে ওসাইরিস-এপেক্স (OSIRIS-APEX) নামক একটি মহাকাশযান অ্যাপোফিসকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য কাজ করছে, যা গ্রহাণুটির চারপাশের পরিবেশ ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণা চালাবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন