অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
সাইবেরিয়ার বরফাবৃত নির্জন ভূখণ্ডের একটি সংবেদনশীল গবেষণাগারে ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ ল্যাব টেকনিশিয়ানের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
রাশিয়ার ইরকুটস্ক শহরের ওই অতি সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক মারকুন ব্যাধি ও প্যাথোজেন নিয়ে গবেষণা করা হয়।
সেখানে কর্মরত তরুণ ল্যাব টেকনিশিয়ান দারিয়া শিলোভা মাত্র দুদিনের মাথায় আকস্মিক অসুস্থতায় মারা যান। সরকারি খাতায় তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে অজানা নিউমোনিয়া উল্লেখ করা হলেও, স্থানীয় প্রচারমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে যে কাজের সময় ল্যাবরেটরির কোনো মারাত্মক বিষাক্ত জীবাণুর সংস্পর্শে এসে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয়।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ৬০ জন সহকর্মীকে ওই ভবনের ভেতরেই অবরুদ্ধ বা কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
পাশের পাঁচটি হাসপাতালেও কঠোর কোয়ারেন্টাইন আইন জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মস্কোর প্রশাসন তৎপর রয়েছে এবং ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গুজব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা দাবি করেছে যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কারও দেহে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়নি।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মৃত গবেষকের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককে শনাক্ত করে কঠোর নজরদারিতে রাখার কথা জানিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডক্টর টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস রাশিয়াকে কোনো তথ্য গোপন না করে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস থেকেও মস্কোর প্রতি উদ্বেগ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলার এবং প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিলেও, মস্কো ওয়াশিংটনের সেই প্রস্তাব কঠোরভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন